মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে প্রাণঘাতী ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ইবোলার এই মহামারিতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দেশটির সরকারি এক পরিসংখ্যানে ইবোলায় প্রাণহানির এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট এই মহামারি ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাপিয়ে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা মহামারি। এর আগে, ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া মহামারিতে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনজুড়ে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং মারা যান ১১ হাজারের বেশি মানুষ।
সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭ জনে। দেশটিতে ইবোলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ১৮৬ জনে পৌঁছেছে। গত ১৫ মে দেশটির ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই মহামারি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কঙ্গো কর্তৃপক্ষ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভয়াবহ এই রোগ ইতোমধ্যে দেশটির ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, কঙ্গোতে ইবোলায় প্রায় ৬০ শতাংশ মৃত্যুই চিকিৎসা কেন্দ্রের বাইরে ঘটছে; যা রোগীরা মারা যাওয়ার আগে আক্রান্তদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার কঠিন চ্যালেঞ্জকে সামনে আনছে।
ইবোলার বুন্দিবুগিও প্রজাতির জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্টারন্যাশনাল এইডস ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভসহ (আইএভিআই) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এর টিকা উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কঙ্গো কর্তৃপক্ষ প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের মার্কের তৈরি এরভেবো টিকা দেওয়া শুরু করেছে। ইবোলার জায়ারে প্রজাতির বিরুদ্ধে অনুমোদিত এই টিকা বুন্দিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধেও কিছুটা কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
খুলনা গেজেট/এএজে

